টকটকে সোনালি রং আর মৌ মৌ গন্ধে চারপাশ জানান দিচ্ছে এখন বৈশাখ। কাঠফাটা রোদে প্রাণ যখন ওষ্ঠাগত, তখন এক ফালি রসালো বাঙ্গী যেন অমৃতের সমান। আর যদি সেই বাঙ্গী হয় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ‘ভাঙা ভিটা’ গ্রামের, তবে তো কথাই নেই। কেবল একটি ফল হিসেবে নয়, ভাঙা ভিটার বাঙ্গী আজ এই অঞ্চলের কৃষি ঐতিহ্যের এক অনন্য ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের একটি গ্রাম হলো ভাঙা ভিটা। এই গ্রাম এবং এর আশপাশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি বাঙ্গী চাষের জন্য প্রাকৃতিকভাবেই আশীর্বাদস্বরূপ। স্থানীয় কৃষকরা যুগের পর যুগ ধরে প্রথাগত পদ্ধতি ও জৈব সার ব্যবহার করে এই বাঙ্গী চাষ করে আসছেন। কোনো প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই উৎপাদিত হয় বলে এর পুষ্টিগুণ থাকে অটুট। চৈত্র ও বৈশাখের রোদে মাঠজুড়ে যখন বাঙ্গী পাকতে শুরু করে, তখন এর সুগন্ধে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে পুরো চরাঞ্চল।
সাধারণত অনেক এলাকায় উৎপাদিত বাঙ্গী স্বাদে পানসে হলেও ভাঙা ভিটার বাঙ্গী স্বাদে তুলনামূলক মিষ্টি ও অত্যন্ত রসালো। এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য একে আলাদা করেছে। পরিপক্ক হলে এই বাঙ্গীগুলো বড় আকারের এবং উজ্জ্বল সোনালি বা গাঢ় হলুদাভ রঙের হয়। এখানকার বাঙ্গীর সুগন্ধ এতটাই তীব্র যে দূর থেকেই এর উপস্থিতির জানান পাওয়া যায়। ভোর হতেই ভাঙা ভিটার ঘাটগুলোতে বসে বাঙ্গীর বিশাল হাট। চাষিরা খেত থেকে তুলে সরাসরি পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ দৃশ্য দেখা যায় বিকেলে। স্থানীয় ব্রিজের ওপর প্রতিদিন বসে এক উৎসবমুখর ‘বাঙ্গীর মেলা’। মানুষের ভিড়ে ব্রিজটি যেন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। ক্রেতারা টাটকা বাঙ্গী কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ভিড় জমান।
নবাবগঞ্জের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভাঙা ভিটার বাঙ্গীর খ্যাতি এখন রাজধানীসহ দেশজুড়ে। স্থানীয় বান্দুরা, জয়পাড়া ও মাঝিরকান্দা বাজার হয়ে ট্রাক ও ট্রলারযোগে এই বাঙ্গী পৌঁছে যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও বাদামতলীর মতো বড় বড় আড়তগুলোতে। রাজধানীসহ আশেপাশের জেলাগুলোতেও ‘ভাঙা ভিটার বাঙ্গী’ নামে এটি সমাদৃত।
স্থানীয় চাষিদের মতে, প্রতি বছরই ভালো ফলন হলেও পরিবহন ও সংরক্ষণের অভাবে মাঝেমধ্যে নায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। তবে ঐতিহ্য আর মান ধরে রাখার কারণে বাজারে এর চাহিদা সবসময় তুঙ্গে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া পেলে ভাঙা ভিটার এই বাঙ্গী দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
ভাঙা ভিটার সোনালি বাঙ্গী কেবল কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে না, বরং দোহার-নবাবগঞ্জের গৌরবকেও পৌঁছে দিচ্ছে দেশজুড়ে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬
টকটকে সোনালি রং আর মৌ মৌ গন্ধে চারপাশ জানান দিচ্ছে এখন বৈশাখ। কাঠফাটা রোদে প্রাণ যখন ওষ্ঠাগত, তখন এক ফালি রসালো বাঙ্গী যেন অমৃতের সমান। আর যদি সেই বাঙ্গী হয় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ‘ভাঙা ভিটা’ গ্রামের, তবে তো কথাই নেই। কেবল একটি ফল হিসেবে নয়, ভাঙা ভিটার বাঙ্গী আজ এই অঞ্চলের কৃষি ঐতিহ্যের এক অনন্য ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের একটি গ্রাম হলো ভাঙা ভিটা। এই গ্রাম এবং এর আশপাশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি বাঙ্গী চাষের জন্য প্রাকৃতিকভাবেই আশীর্বাদস্বরূপ। স্থানীয় কৃষকরা যুগের পর যুগ ধরে প্রথাগত পদ্ধতি ও জৈব সার ব্যবহার করে এই বাঙ্গী চাষ করে আসছেন। কোনো প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই উৎপাদিত হয় বলে এর পুষ্টিগুণ থাকে অটুট। চৈত্র ও বৈশাখের রোদে মাঠজুড়ে যখন বাঙ্গী পাকতে শুরু করে, তখন এর সুগন্ধে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে পুরো চরাঞ্চল।
সাধারণত অনেক এলাকায় উৎপাদিত বাঙ্গী স্বাদে পানসে হলেও ভাঙা ভিটার বাঙ্গী স্বাদে তুলনামূলক মিষ্টি ও অত্যন্ত রসালো। এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য একে আলাদা করেছে। পরিপক্ক হলে এই বাঙ্গীগুলো বড় আকারের এবং উজ্জ্বল সোনালি বা গাঢ় হলুদাভ রঙের হয়। এখানকার বাঙ্গীর সুগন্ধ এতটাই তীব্র যে দূর থেকেই এর উপস্থিতির জানান পাওয়া যায়। ভোর হতেই ভাঙা ভিটার ঘাটগুলোতে বসে বাঙ্গীর বিশাল হাট। চাষিরা খেত থেকে তুলে সরাসরি পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ দৃশ্য দেখা যায় বিকেলে। স্থানীয় ব্রিজের ওপর প্রতিদিন বসে এক উৎসবমুখর ‘বাঙ্গীর মেলা’। মানুষের ভিড়ে ব্রিজটি যেন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। ক্রেতারা টাটকা বাঙ্গী কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ভিড় জমান।
নবাবগঞ্জের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভাঙা ভিটার বাঙ্গীর খ্যাতি এখন রাজধানীসহ দেশজুড়ে। স্থানীয় বান্দুরা, জয়পাড়া ও মাঝিরকান্দা বাজার হয়ে ট্রাক ও ট্রলারযোগে এই বাঙ্গী পৌঁছে যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও বাদামতলীর মতো বড় বড় আড়তগুলোতে। রাজধানীসহ আশেপাশের জেলাগুলোতেও ‘ভাঙা ভিটার বাঙ্গী’ নামে এটি সমাদৃত।
স্থানীয় চাষিদের মতে, প্রতি বছরই ভালো ফলন হলেও পরিবহন ও সংরক্ষণের অভাবে মাঝেমধ্যে নায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। তবে ঐতিহ্য আর মান ধরে রাখার কারণে বাজারে এর চাহিদা সবসময় তুঙ্গে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া পেলে ভাঙা ভিটার এই বাঙ্গী দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
ভাঙা ভিটার সোনালি বাঙ্গী কেবল কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে না, বরং দোহার-নবাবগঞ্জের গৌরবকেও পৌঁছে দিচ্ছে দেশজুড়ে।

আপনার মতামত লিখুন