ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

রাজনীতি

মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ পরিবার পাকিস্তানের আশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিল: রিজভী

মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ পরিবার পাকিস্তানের আশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিল: রিজভী

আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে কোনো অবদান নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ হাসিনার পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিল। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী।

রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক। একই সঙ্গে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের পরিবারের সম্পৃক্ততা ও অবদানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর পেছনে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা নিজের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে যে দাবি করা হয়, তার সঙ্গে তিনি একমত নন। বরং ওই সময় শেখ হাসিনার পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিল বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনোই মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে খালেদা জিয়ার পরিবারকে রাজনৈতিক ও শারীরিকভাবে নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তারেক রহমানের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে জনগণের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করা এবং একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রকারান্তরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ‘গভীর চক্রান্ত’ চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কাদের খুশি করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে জনগণের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রিজভী একটি চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত ইতিহাস তুলে ধরার ওই প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি রাখা হয়নি।

এ ছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের আয়োজিত প্রদর্শনীতে একাত্তরের গুরুত্বকে কমিয়ে জুলাই আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর এসব প্রচেষ্টা মূলত জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে ‘শত্রুতা’রই বহিঃপ্রকাশ।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ পরিবার পাকিস্তানের আশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিল: রিজভী

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে কোনো অবদান নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ হাসিনার পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিল। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী।

রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক। একই সঙ্গে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের পরিবারের সম্পৃক্ততা ও অবদানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর পেছনে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা নিজের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে যে দাবি করা হয়, তার সঙ্গে তিনি একমত নন। বরং ওই সময় শেখ হাসিনার পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিল বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনোই মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে খালেদা জিয়ার পরিবারকে রাজনৈতিক ও শারীরিকভাবে নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তারেক রহমানের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে জনগণের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করা এবং একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রকারান্তরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ‘গভীর চক্রান্ত’ চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কাদের খুশি করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে জনগণের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রিজভী একটি চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত ইতিহাস তুলে ধরার ওই প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি রাখা হয়নি।

এ ছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের আয়োজিত প্রদর্শনীতে একাত্তরের গুরুত্বকে কমিয়ে জুলাই আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর এসব প্রচেষ্টা মূলত জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে ‘শত্রুতা’রই বহিঃপ্রকাশ।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত