ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

ফুটবল

কান্নার স্মৃতি মুছে ইতিহাস লিখতে মেটলাইফে মেসি

কান্নার স্মৃতি মুছে ইতিহাস লিখতে মেটলাইফে মেসি

এক দশক আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই চোখের জল ফেলেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই মাঠেই এবার আবারও বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে নামছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। প্রতিপক্ষ স্পেন। আর জিততে পারলেই হয়তো চিরতরে শেষ হয়ে যাবে—তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার কি না, সেই বিতর্ক।

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। নিজের শটও মিস করেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমার জন্য জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ।’

তখন পর্যন্ত ক্লাব ফুটবলে তার অর্জনের ঝুলি ছিল ঈর্ষণীয়। পাঁচটি ব্যালন ডি’অর, বার্সেলোনার হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে একের পর এক ফাইনালে হার তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। 

২০০৭ কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হার, ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে পরাজয় এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের যন্ত্রণা তাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়।

তবে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলান মেসি। দেশের প্রতি ভালোবাসাই তাকে ফিরিয়ে আনে।

এর পরই বদলে যায় সবকিছু। লিওনেল স্কালোনির অধীনে নতুন আর্জেন্টিনার সূচনা হয়। ২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেন মেসি।

এরপর ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা যোগ হয় তার ঝুলিতে।

এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ, যা মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। শুরুতে এটি তার বিদায়ী সফর বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সেও তিনি প্রমাণ করেছেন, এখনো বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি।

রোববার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনকে হারাতে পারলে মেসির হাতে উঠবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এবং আর্জেন্টিনার হয়ে চতুর্থ বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। সেইসঙ্গে ‘সর্বকালের সেরা ফুটবলার’ বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ হবে।

ফাইনালে ওঠার পর সতীর্থ ক্রিস্তিয়ান রোমেরো মেসিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আমরা যদি জিতি, তাহলে আশা করি তুমি আরও কয়েক বছর খেলবে।’

দশ বছর আগে যে মেটলাইফ স্টেডিয়াম ছিল তার অশ্রুর সাক্ষী, সেই মাঠই এবার ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে লিওনেল মেসির জন্য।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কান্নার স্মৃতি মুছে ইতিহাস লিখতে মেটলাইফে মেসি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

এক দশক আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই চোখের জল ফেলেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই মাঠেই এবার আবারও বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে নামছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। প্রতিপক্ষ স্পেন। আর জিততে পারলেই হয়তো চিরতরে শেষ হয়ে যাবে—তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার কি না, সেই বিতর্ক।

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। নিজের শটও মিস করেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমার জন্য জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ।’

তখন পর্যন্ত ক্লাব ফুটবলে তার অর্জনের ঝুলি ছিল ঈর্ষণীয়। পাঁচটি ব্যালন ডি’অর, বার্সেলোনার হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে একের পর এক ফাইনালে হার তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। 

২০০৭ কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হার, ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে পরাজয় এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের যন্ত্রণা তাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়।

তবে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলান মেসি। দেশের প্রতি ভালোবাসাই তাকে ফিরিয়ে আনে।

এর পরই বদলে যায় সবকিছু। লিওনেল স্কালোনির অধীনে নতুন আর্জেন্টিনার সূচনা হয়। ২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেন মেসি।

এরপর ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা যোগ হয় তার ঝুলিতে।

এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ, যা মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। শুরুতে এটি তার বিদায়ী সফর বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সেও তিনি প্রমাণ করেছেন, এখনো বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি।

রোববার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনকে হারাতে পারলে মেসির হাতে উঠবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এবং আর্জেন্টিনার হয়ে চতুর্থ বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। সেইসঙ্গে ‘সর্বকালের সেরা ফুটবলার’ বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ হবে।

ফাইনালে ওঠার পর সতীর্থ ক্রিস্তিয়ান রোমেরো মেসিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আমরা যদি জিতি, তাহলে আশা করি তুমি আরও কয়েক বছর খেলবে।’

দশ বছর আগে যে মেটলাইফ স্টেডিয়াম ছিল তার অশ্রুর সাক্ষী, সেই মাঠই এবার ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে লিওনেল মেসির জন্য।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত