শফিক সাদেকী বাংলাদেশের নব্বই দশকের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেতা। দীর্ঘদিন অভিনয়জগত থেকে দূরে থাকলেও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সোনালি যুগের অসংখ্য নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার এবং নাট্যনির্মাতাও।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলায় তাঁর জন্ম। ডাকনাম পুলক। শৈশব ও স্কুলজীবন কেটেছে সিরাজগঞ্জেই। ছোটবেলা থেকেই যাত্রাপালা ও মঞ্চনাটক দেখে অভিনয়ের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ জন্ম নেয়।
১৯৮৪ সাল থেকে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব তারিক আনাম খান-এর নির্দেশনায় ‘বিচ্ছু’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
নব্বইয়ের দশকে তিনি ছিলেন বিটিভির অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা। বিশেষ করে ‘কোন কাননের ফুল’ ও ‘বড় বাড়ি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে— সুবর্ণ সময়, নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে, সেই তুমি এলে, এক জনমে, মাটির মায়া, চেনাজন চেনা মন, অন্তরে, অপু তুই ফিরে আয় এবং জলাশয় কতদূরে।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত শিল্পী। এছাড়া বিটিভির নিজস্ব প্রযোজনার ১৭টি নাটকের চিত্রনাট্যও রচনা করেছেন।
ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তিনি অভিনয় কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তবে প্রবাসে থেকেও নাটক ও বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
সম্প্রতি দেশে এসে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শফিক সাদেকী জানান, অনুকূল কর্মপরিবেশ ও মানসম্মত কাজের প্রস্তাব পেলে তিনি আবারও নিয়মিত অভিনয়ে ফিরতে চান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একসময় নাট্যাঙ্গনের পেশাদারিত্ব ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে। বিশেষ করে বিটিভিতে অলিখিত ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ সংস্কৃতি, অদৃশ্য প্রভাব ও পক্ষপাতিত্বের কারণে অনেক শিল্পীর মতো তিনিও কাজের সুযোগ হারাতে থাকেন। তাঁর ভাষায়, এই পরিস্থিতি শুধু বিটিভিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর প্রভাব বেসরকারি টেলিভিশনেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পীর জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সাল থেকে অভিনয় করেছি। প্রায় সাড়ে তিনশ নাটকে কাজ করেছি। দীর্ঘ সময় ধরে একজন শিল্পীর নিজের অবস্থান ধরে রাখা সহজ নয়। কিন্তু যখন অযৌক্তিক বাধা আসে, তখন শিল্পীসত্তার মৃত্যু ঘটতে থাকে।’
বিদেশে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে বিদেশে থাকা আমার স্বপ্ন ছিল না। এটি ছিল এক ধরনের বাধ্যবাধকতা। দেশ, মানুষ ও অভিনয়—সবকিছু ছেড়ে থাকতে হয়েছে, যা অত্যন্ত কষ্টের।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমি ভালো চাকরি করি, দেশে পারিবারিক ব্যবসাও রয়েছে। কিন্তু অভিনয়ই আমার শেকড়। যদি মনে হয় দেশে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাহলে অবশ্যই ফিরব। অভিনয় আমার রক্তে মিশে আছে। দীর্ঘ বিরতিতে অনেক কিছু বদলে গেছে, তবে ভালো কাজের সুযোগ পেলে অভিনয়ের তৃষ্ণা কিছুটা হলেও মেটাতে চাই।’

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
শফিক সাদেকী বাংলাদেশের নব্বই দশকের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেতা। দীর্ঘদিন অভিনয়জগত থেকে দূরে থাকলেও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সোনালি যুগের অসংখ্য নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার এবং নাট্যনির্মাতাও।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলায় তাঁর জন্ম। ডাকনাম পুলক। শৈশব ও স্কুলজীবন কেটেছে সিরাজগঞ্জেই। ছোটবেলা থেকেই যাত্রাপালা ও মঞ্চনাটক দেখে অভিনয়ের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ জন্ম নেয়।
১৯৮৪ সাল থেকে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব তারিক আনাম খান-এর নির্দেশনায় ‘বিচ্ছু’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
নব্বইয়ের দশকে তিনি ছিলেন বিটিভির অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা। বিশেষ করে ‘কোন কাননের ফুল’ ও ‘বড় বাড়ি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে— সুবর্ণ সময়, নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে, সেই তুমি এলে, এক জনমে, মাটির মায়া, চেনাজন চেনা মন, অন্তরে, অপু তুই ফিরে আয় এবং জলাশয় কতদূরে।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত শিল্পী। এছাড়া বিটিভির নিজস্ব প্রযোজনার ১৭টি নাটকের চিত্রনাট্যও রচনা করেছেন।
ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তিনি অভিনয় কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তবে প্রবাসে থেকেও নাটক ও বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
সম্প্রতি দেশে এসে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শফিক সাদেকী জানান, অনুকূল কর্মপরিবেশ ও মানসম্মত কাজের প্রস্তাব পেলে তিনি আবারও নিয়মিত অভিনয়ে ফিরতে চান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একসময় নাট্যাঙ্গনের পেশাদারিত্ব ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে। বিশেষ করে বিটিভিতে অলিখিত ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ সংস্কৃতি, অদৃশ্য প্রভাব ও পক্ষপাতিত্বের কারণে অনেক শিল্পীর মতো তিনিও কাজের সুযোগ হারাতে থাকেন। তাঁর ভাষায়, এই পরিস্থিতি শুধু বিটিভিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর প্রভাব বেসরকারি টেলিভিশনেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পীর জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সাল থেকে অভিনয় করেছি। প্রায় সাড়ে তিনশ নাটকে কাজ করেছি। দীর্ঘ সময় ধরে একজন শিল্পীর নিজের অবস্থান ধরে রাখা সহজ নয়। কিন্তু যখন অযৌক্তিক বাধা আসে, তখন শিল্পীসত্তার মৃত্যু ঘটতে থাকে।’
বিদেশে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে বিদেশে থাকা আমার স্বপ্ন ছিল না। এটি ছিল এক ধরনের বাধ্যবাধকতা। দেশ, মানুষ ও অভিনয়—সবকিছু ছেড়ে থাকতে হয়েছে, যা অত্যন্ত কষ্টের।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমি ভালো চাকরি করি, দেশে পারিবারিক ব্যবসাও রয়েছে। কিন্তু অভিনয়ই আমার শেকড়। যদি মনে হয় দেশে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাহলে অবশ্যই ফিরব। অভিনয় আমার রক্তে মিশে আছে। দীর্ঘ বিরতিতে অনেক কিছু বদলে গেছে, তবে ভালো কাজের সুযোগ পেলে অভিনয়ের তৃষ্ণা কিছুটা হলেও মেটাতে চাই।’

আপনার মতামত লিখুন