ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

ফুটবল

বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টিতে শট নেননি ফুটবলার

বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টিতে শট নেননি ফুটবলার

সেনেগালের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে বেলজিয়াম যখন শেষ ষোলো নিশ্চিত করে, তখন আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন রোমেলু লুকাকু। অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টি নিজে না নিয়ে সতীর্থ ইউরি টিলেমান্সকে সুযোগ দেন এই তারকা স্ট্রাইকার। পরে তিনি জানালেন, বাবার মৃত্যুশোক সামলে ওঠার সংগ্রামই তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

এদিন টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল করেন লুকাকু। দলের প্রত্যাবর্তনের সূচনাও আসে তার পা থেকেই। তবে অতিরিক্ত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি পেলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তিনিই শট নেবেন। কিন্তু তিনি বল হাতে নিয়েও তা ইউরি টিলেমান্সের কাছে তুলে দেন। টিলেমান্স সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে লুকাকু বলেন, হ্যাঁ, আমি চাইলে পেনাল্টি নিতে পারতাম। কিন্তু মানসিকভাবে আমি এখনও খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই আমি চেয়েছিলাম ইউরি (টিলেমান্স) পেনাল্টিটি নিক। আমার ব্যক্তিগতভাবে জেতার দরকার নেই, জিততে হবে দলকে। সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছে, ইউরির নেওয়াই ভালো হবে।

 গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৫৮ বছর বয়সে মারা যান লুকাকুর বাবা রজার লুকাকু, যিনি জায়ারের (বর্তমান কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র) সাবেক জাতীয় দলের স্ট্রাইকার ছিলেন। বাবার মৃত্যুর ধাক্কা লুকাকুকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। কাকতালীয়ভাবে, ইতালির নাপোলিতে তার মৌসুমও প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ কাটে- মাত্র সাত ম্যাচে একটি গোল করেন তিনি।

এই বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাননি লুকাকু। তবে শেষ দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে গোল করেন। মজার বিষয়, দুটি গোলই এসেছে একই মিনিটে- দ্বিতীয়ার্ধের ৪১তম মিনিটে।

নিজের এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে লুকাকু বলেন, আমার মনে হয়, ওপরে বসে আমার বাবাই আমাকে সাহায্য করছেন।

শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ার পর বেলজিয়ামের পরবর্তী প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। এই জয়ের পর দলের মানসিক দৃঢ়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন লুকাকু। তার ভাষায়, আমরা পিছিয়ে ছিলাম, কিন্তু দারুণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি। এ ধরনের ম্যাচে ঠিক এটাই দরকার, কারণ সেনেগাল এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল। প্রযুক্তিগত, শারীরিক ও কৌশলগত সব দিক থেকেই। ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল।

তিনি আরও বলেন, তবে আমরা প্রেসিংয়ের তীব্রতা বাড়িয়েছিলাম এবং বল দখলে নেওয়ার পর দলের ঐক্য ও লড়াইয়ের মানসিকতা ফুটে উঠেছিল। এভাবেই আমরা জিতেছি। এই ধরনের জয় আমাদের দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে। আমরা সবসময়ই একতাবদ্ধ, তবে এমন জয় দলের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টিতে শট নেননি ফুটবলার

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

সেনেগালের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে বেলজিয়াম যখন শেষ ষোলো নিশ্চিত করে, তখন আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন রোমেলু লুকাকু। অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টি নিজে না নিয়ে সতীর্থ ইউরি টিলেমান্সকে সুযোগ দেন এই তারকা স্ট্রাইকার। পরে তিনি জানালেন, বাবার মৃত্যুশোক সামলে ওঠার সংগ্রামই তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

এদিন টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও গোল করেন লুকাকু। দলের প্রত্যাবর্তনের সূচনাও আসে তার পা থেকেই। তবে অতিরিক্ত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি পেলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তিনিই শট নেবেন। কিন্তু তিনি বল হাতে নিয়েও তা ইউরি টিলেমান্সের কাছে তুলে দেন। টিলেমান্স সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে লুকাকু বলেন, হ্যাঁ, আমি চাইলে পেনাল্টি নিতে পারতাম। কিন্তু মানসিকভাবে আমি এখনও খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তাই আমি চেয়েছিলাম ইউরি (টিলেমান্স) পেনাল্টিটি নিক। আমার ব্যক্তিগতভাবে জেতার দরকার নেই, জিততে হবে দলকে। সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছে, ইউরির নেওয়াই ভালো হবে।

 গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৫৮ বছর বয়সে মারা যান লুকাকুর বাবা রজার লুকাকু, যিনি জায়ারের (বর্তমান কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র) সাবেক জাতীয় দলের স্ট্রাইকার ছিলেন। বাবার মৃত্যুর ধাক্কা লুকাকুকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। কাকতালীয়ভাবে, ইতালির নাপোলিতে তার মৌসুমও প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ কাটে- মাত্র সাত ম্যাচে একটি গোল করেন তিনি।

এই বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাননি লুকাকু। তবে শেষ দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে গোল করেন। মজার বিষয়, দুটি গোলই এসেছে একই মিনিটে- দ্বিতীয়ার্ধের ৪১তম মিনিটে।

নিজের এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে লুকাকু বলেন, আমার মনে হয়, ওপরে বসে আমার বাবাই আমাকে সাহায্য করছেন।

শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ার পর বেলজিয়ামের পরবর্তী প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। এই জয়ের পর দলের মানসিক দৃঢ়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন লুকাকু। তার ভাষায়, আমরা পিছিয়ে ছিলাম, কিন্তু দারুণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছি। এ ধরনের ম্যাচে ঠিক এটাই দরকার, কারণ সেনেগাল এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল। প্রযুক্তিগত, শারীরিক ও কৌশলগত সব দিক থেকেই। ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল।

তিনি আরও বলেন, তবে আমরা প্রেসিংয়ের তীব্রতা বাড়িয়েছিলাম এবং বল দখলে নেওয়ার পর দলের ঐক্য ও লড়াইয়ের মানসিকতা ফুটে উঠেছিল। এভাবেই আমরা জিতেছি। এই ধরনের জয় আমাদের দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে। আমরা সবসময়ই একতাবদ্ধ, তবে এমন জয় দলের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত