ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

ফুটবল

বিশ্বকাপ জিতেছিলেন যে মাঠে, সেখানেই পেলে-ম্যারাডোনাকে রাজকীয় শ্রদ্ধা

বিশ্বকাপ জিতেছিলেন যে মাঠে, সেখানেই পেলে-ম্যারাডোনাকে রাজকীয় শ্রদ্ধা

বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য এবং আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আজতেকা’ স্টেডিয়াম। বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ আসর আয়োজনের গৌরবময় রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে এই ভেন্যুটি। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফুটবলের দুই প্রয়াত কিংবদন্তি পেলে এবং দিয়েগো ম্যারাডোনাকে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে। আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ‘ক্লারিন’-এর বরাতে এমন খবর জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’।

ফুটবলবিশ্বে মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামটি একটি জীবন্ত উপাখ্যান। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সব ম্যাচ আয়োজন করেছিল এই মাঠ। এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের প্রথম ভেন্যু হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ আয়োজনের ‘হ্যাটট্রিক’ রেকর্ড নিজেদের করে নিচ্ছে আজতেকা।

এই স্টেডিয়ামের সাথে জড়িয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসের দুই চিরস্মরণীয় মহাতারকার নাম। কাকতালীয়ভাবে, পেলে এবং ম্যারাডোনা উভয়েই তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় বিশ্বকাপটি জয় করেছিলেন এই একই মাঠে।

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে পেলের নেতৃত্বাধীন ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা দলটি এই এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামেই ইতালিকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বজয় করেছিল। এটি ছিল পেলের ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও শেষ বিশ্বকাপ ট্রফি।


আর ১৯৮৬ সালে এই মাঠেই একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনা। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং পরবর্তীতে মাঝমাঠ থেকে একক দৌড়ে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’-সবেরই সাক্ষী এই আজটেকা।

ফুটবলের এই দুই রাজপুত্র আজ আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। ম্যারাডোনা ২০২০ সালে এবং পেলে ২০২২ সালে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তবে ফুটবল বিশ্বে তাদের অবদান চিরভাস্বর। যে মাঠে দাঁড়িয়ে তারা বিশ্বজয়ের উল্লাস করেছিলেন, সেই মাঠেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই শ্রদ্ধাঞ্জলি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের দুই শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি পুরো ক্রীড়াবিশ্বের ভালোবাসার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই বিশেষ আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এক অন্যরকম আবেগের আবহ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ১টায় স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’- এর ২৩তম আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ মহোৎসব।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


বিশ্বকাপ জিতেছিলেন যে মাঠে, সেখানেই পেলে-ম্যারাডোনাকে রাজকীয় শ্রদ্ধা

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য এবং আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আজতেকা’ স্টেডিয়াম। বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ আসর আয়োজনের গৌরবময় রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে এই ভেন্যুটি। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফুটবলের দুই প্রয়াত কিংবদন্তি পেলে এবং দিয়েগো ম্যারাডোনাকে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে। আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ‘ক্লারিন’-এর বরাতে এমন খবর জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’।

ফুটবলবিশ্বে মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামটি একটি জীবন্ত উপাখ্যান। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সব ম্যাচ আয়োজন করেছিল এই মাঠ। এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের প্রথম ভেন্যু হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপ আয়োজনের ‘হ্যাটট্রিক’ রেকর্ড নিজেদের করে নিচ্ছে আজতেকা।

এই স্টেডিয়ামের সাথে জড়িয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসের দুই চিরস্মরণীয় মহাতারকার নাম। কাকতালীয়ভাবে, পেলে এবং ম্যারাডোনা উভয়েই তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় বিশ্বকাপটি জয় করেছিলেন এই একই মাঠে।

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে পেলের নেতৃত্বাধীন ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা দলটি এই এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামেই ইতালিকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বজয় করেছিল। এটি ছিল পেলের ক্যারিয়ারের তৃতীয় ও শেষ বিশ্বকাপ ট্রফি।


আর ১৯৮৬ সালে এই মাঠেই একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনা। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং পরবর্তীতে মাঝমাঠ থেকে একক দৌড়ে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’-সবেরই সাক্ষী এই আজটেকা।

ফুটবলের এই দুই রাজপুত্র আজ আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। ম্যারাডোনা ২০২০ সালে এবং পেলে ২০২২ সালে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তবে ফুটবল বিশ্বে তাদের অবদান চিরভাস্বর। যে মাঠে দাঁড়িয়ে তারা বিশ্বজয়ের উল্লাস করেছিলেন, সেই মাঠেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই শ্রদ্ধাঞ্জলি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের দুই শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি পুরো ক্রীড়াবিশ্বের ভালোবাসার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই বিশেষ আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এক অন্যরকম আবেগের আবহ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ১টায় স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’- এর ২৩তম আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ মহোৎসব।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত