‘আমার বুকের মধ্যেখানে’ আর ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’ এই দুটি অমর গানের স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল এক নীরব কিংবদন্তি হলেন কাজরী।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের কথা উঠলেই দর্শকদের মনে ভেসে ওঠে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা, স্মরণীয় চরিত্র এবং হৃদয়স্পর্শী গানের কথা। সেই সোনালি অধ্যায়ের পাতায় এমন কিছু শিল্পীর নাম লেখা আছে, যারা খুব বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় না করেও দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। তিনিই হলেন বাংলা চলচিত্রের আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা কাজরী।
তিনি আলোচিত তারকাদের কাতারের নক্ষত্র নয়, ছিলেন না সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। কিন্তু তার অভিনীত কিছু চলচ্চিত্র, কিছু চরিত্র এবং কয়েকটি কালজয়ী গান তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান দিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তিনি রুপালি পর্দা থেকে হারিয়ে গেলেও দর্শক হৃদয়ে তিনি জ্বলজ্বলে এক তারকা।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নয়নের আলো’ ছায়াছবিটি নানা কারণে মাইলফলক হয়ে আছে। যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সামিনা চৌধুরীর কণ্ঠে গাওয়া কালজয়ী গান আমার বুকের মধ্যেখানে, মন যেখানে হৃদয় যেখানে। এই গান শুধু শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেনি, বরং পর্দায় কাজরীর মায়াবী উপস্থিতি চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
ওই বছরে মুক্তি পায় আলমগীর কবির এর ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র ‘মহানায়ক’। সেখানে বুলবুল আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করেন কাজরী। সুবীর নন্দীর কণ্ঠে গাওয়া পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই...গানটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও আবেগময় গান হিসেবে বিবেচিত হয়। গানটির দৃশ্যায়নে কাজরীর অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অনেক নায়িকা আছেন, যাদের নাম অসংখ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কিন্তু কাজরীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। মাত্র কয়েকটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন, যা তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে।
১৯৭৮ সালে আজিজুর রহমান এর ‘সাম্পানওয়ালা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে কাজরীর। প্রথম ছবিতে তিনি অভিনয় করেন শাবানার বান্ধবীর চরিত্রে। এরপর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করতে থাকেন। তবে প্রকৃত অর্থে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
কাজরীর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মহানায়ক’, ‘জোকার’, ‘মৌচোর’, ‘কাজললতা’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘রেশমী চুড়ি’ ও ‘দুই বোন’। প্রতিটি চলচ্চিত্রেই তিনি তার অভিনয় দক্ষতা, মায়াবী চেহারা এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন।
আশির দশকে যখন শাবানা, ববিতা, রোজিনা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত নায়িকারা চলচ্চিত্রাঙ্গন শাসন করছিলেন, তখন কাজরী নিজের জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা একটি পরিচয়। তার অভিনয়ে ছিল সংযম, চোখের ভাষায় ছিল অনুভূতির প্রকাশ, আর ব্যক্তিত্বে ছিল এক ধরনের সৌম্য সৌন্দর্য। দর্শকরা তার মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন এক ভিন্ন আবেদন।
বিশেষ করে ‘মহানায়ক’ চলচ্চিত্রে বুলবুল আহমেদের বিপরীতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। প্রেম, স্বপ্ন, ভাঙন ও জীবনের বাস্তবতার গল্পে নির্মিত সেই চলচ্চিত্রে কাজরী ছিলেন আবেগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে ‘মহানায়ক’ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়; এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আলমগীর কবির রচিত ও পরিচালিত এই ছবিটি নেপাল ও থাইল্যান্ডে চিত্রায়িত হয়েছিল, যা সে সময়ের প্রেক্ষাপটে ছিল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রেম, প্রতারণা, বিবেকবোধ ও সামাজিক বাস্তবতার সমন্বয়ে নির্মিত ছবিটি আজও চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের আলোচনায় স্থান পায়।
ছবিটির গানগুলোও ছিল অসাধারণ জনপ্রিয়। শেখ সাদী খানের সুর ও সংগীত পরিচালনায় এবং নজরুল ইসলাম বাবু, মনিরুজ্জামান মনির ও জাহিদুল হকের গীতিকবিতায় সজ্জিত গানগুলো চলচ্চিত্রটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। সুবীর নন্দী এই ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
অন্যদিকে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের প্রতিটি গানই আজ বাংলা গানের ভাণ্ডারের অমূল্য সম্পদ। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা ও সুরে নির্মিত গানগুলো সময়ের সীমানা অতিক্রম করে এখনও সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে “আমার বুকের মধ্যেখানে”, “আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো” এবং “আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি”— গানগুলো এখনও শ্রোতাদের আবেগে নাড়া দেয়।
তবে কাজরীর জীবন কেবল চলচ্চিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সময়েই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। যখন তার সামনে আরও বড় সম্ভাবনার দুয়ার খোলা ছিল, তখন তিনি বেছে নেন সংসার ও ব্যক্তিগত জীবন।
বর্তমানে তিনি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে শান্ত পারিবারিক জীবনযাপন করছেন। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে তাকে আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি। চলচ্চিত্রাঙ্গনের সঙ্গেও তার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। অভিনয়ে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই বলেও তিনি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন।
এ যেন চলচ্চিত্রের কোনো অসমাপ্ত গল্পের নীরব সমাপ্তি। তবুও দর্শকদের ভালোবাসা থেকে তিনি কখনো হারিয়ে যাননি।
আজ যখন বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের স্মৃতিচারণ হয়, তখন কাজরীর নাম উচ্চারিত হয় গভীর মমতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে। কারণ তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন; তিনি একটি সময়ের প্রতিনিধি, একটি প্রজন্মের আবেগ, কিছু কালজয়ী গানের মুখ এবং বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য স্মৃতি।
রুপালি পর্দার আলো থেকে তিনি বহু আগেই আড়ালে চলে গেছেন। কিন্তু ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’ কিংবা ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’ গান দুটি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন দর্শকদের হৃদয়ের পর্দায় মায়াবী এক হাসি নিয়ে বেঁচে থাকবেন নায়িকা কাজরী। আলো থেকে আড়ালে গিয়েও তিনি অমলিন।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
‘আমার বুকের মধ্যেখানে’ আর ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’ এই দুটি অমর গানের স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল এক নীরব কিংবদন্তি হলেন কাজরী।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের কথা উঠলেই দর্শকদের মনে ভেসে ওঠে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা, স্মরণীয় চরিত্র এবং হৃদয়স্পর্শী গানের কথা। সেই সোনালি অধ্যায়ের পাতায় এমন কিছু শিল্পীর নাম লেখা আছে, যারা খুব বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় না করেও দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। তিনিই হলেন বাংলা চলচিত্রের আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা কাজরী।
তিনি আলোচিত তারকাদের কাতারের নক্ষত্র নয়, ছিলেন না সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। কিন্তু তার অভিনীত কিছু চলচ্চিত্র, কিছু চরিত্র এবং কয়েকটি কালজয়ী গান তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান দিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তিনি রুপালি পর্দা থেকে হারিয়ে গেলেও দর্শক হৃদয়ে তিনি জ্বলজ্বলে এক তারকা।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নয়নের আলো’ ছায়াছবিটি নানা কারণে মাইলফলক হয়ে আছে। যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সামিনা চৌধুরীর কণ্ঠে গাওয়া কালজয়ী গান আমার বুকের মধ্যেখানে, মন যেখানে হৃদয় যেখানে। এই গান শুধু শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেনি, বরং পর্দায় কাজরীর মায়াবী উপস্থিতি চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
ওই বছরে মুক্তি পায় আলমগীর কবির এর ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র ‘মহানায়ক’। সেখানে বুলবুল আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করেন কাজরী। সুবীর নন্দীর কণ্ঠে গাওয়া পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই...গানটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও আবেগময় গান হিসেবে বিবেচিত হয়। গানটির দৃশ্যায়নে কাজরীর অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অনেক নায়িকা আছেন, যাদের নাম অসংখ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কিন্তু কাজরীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। মাত্র কয়েকটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন, যা তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে।
১৯৭৮ সালে আজিজুর রহমান এর ‘সাম্পানওয়ালা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে কাজরীর। প্রথম ছবিতে তিনি অভিনয় করেন শাবানার বান্ধবীর চরিত্রে। এরপর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করতে থাকেন। তবে প্রকৃত অর্থে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
কাজরীর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মহানায়ক’, ‘জোকার’, ‘মৌচোর’, ‘কাজললতা’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘রেশমী চুড়ি’ ও ‘দুই বোন’। প্রতিটি চলচ্চিত্রেই তিনি তার অভিনয় দক্ষতা, মায়াবী চেহারা এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন।
আশির দশকে যখন শাবানা, ববিতা, রোজিনা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত নায়িকারা চলচ্চিত্রাঙ্গন শাসন করছিলেন, তখন কাজরী নিজের জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা একটি পরিচয়। তার অভিনয়ে ছিল সংযম, চোখের ভাষায় ছিল অনুভূতির প্রকাশ, আর ব্যক্তিত্বে ছিল এক ধরনের সৌম্য সৌন্দর্য। দর্শকরা তার মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন এক ভিন্ন আবেদন।
বিশেষ করে ‘মহানায়ক’ চলচ্চিত্রে বুলবুল আহমেদের বিপরীতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। প্রেম, স্বপ্ন, ভাঙন ও জীবনের বাস্তবতার গল্পে নির্মিত সেই চলচ্চিত্রে কাজরী ছিলেন আবেগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে ‘মহানায়ক’ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়; এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আলমগীর কবির রচিত ও পরিচালিত এই ছবিটি নেপাল ও থাইল্যান্ডে চিত্রায়িত হয়েছিল, যা সে সময়ের প্রেক্ষাপটে ছিল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রেম, প্রতারণা, বিবেকবোধ ও সামাজিক বাস্তবতার সমন্বয়ে নির্মিত ছবিটি আজও চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের আলোচনায় স্থান পায়।
ছবিটির গানগুলোও ছিল অসাধারণ জনপ্রিয়। শেখ সাদী খানের সুর ও সংগীত পরিচালনায় এবং নজরুল ইসলাম বাবু, মনিরুজ্জামান মনির ও জাহিদুল হকের গীতিকবিতায় সজ্জিত গানগুলো চলচ্চিত্রটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। সুবীর নন্দী এই ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
অন্যদিকে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের প্রতিটি গানই আজ বাংলা গানের ভাণ্ডারের অমূল্য সম্পদ। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা ও সুরে নির্মিত গানগুলো সময়ের সীমানা অতিক্রম করে এখনও সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে “আমার বুকের মধ্যেখানে”, “আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো” এবং “আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি”— গানগুলো এখনও শ্রোতাদের আবেগে নাড়া দেয়।
তবে কাজরীর জীবন কেবল চলচ্চিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল সময়েই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। যখন তার সামনে আরও বড় সম্ভাবনার দুয়ার খোলা ছিল, তখন তিনি বেছে নেন সংসার ও ব্যক্তিগত জীবন।
বর্তমানে তিনি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে শান্ত পারিবারিক জীবনযাপন করছেন। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে তাকে আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি। চলচ্চিত্রাঙ্গনের সঙ্গেও তার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। অভিনয়ে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই বলেও তিনি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন।
এ যেন চলচ্চিত্রের কোনো অসমাপ্ত গল্পের নীরব সমাপ্তি। তবুও দর্শকদের ভালোবাসা থেকে তিনি কখনো হারিয়ে যাননি।
আজ যখন বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের স্মৃতিচারণ হয়, তখন কাজরীর নাম উচ্চারিত হয় গভীর মমতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে। কারণ তিনি শুধু একজন অভিনেত্রী নন; তিনি একটি সময়ের প্রতিনিধি, একটি প্রজন্মের আবেগ, কিছু কালজয়ী গানের মুখ এবং বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য স্মৃতি।
রুপালি পর্দার আলো থেকে তিনি বহু আগেই আড়ালে চলে গেছেন। কিন্তু ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’ কিংবা ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’ গান দুটি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন দর্শকদের হৃদয়ের পর্দায় মায়াবী এক হাসি নিয়ে বেঁচে থাকবেন নায়িকা কাজরী। আলো থেকে আড়ালে গিয়েও তিনি অমলিন।

আপনার মতামত লিখুন