ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

আইন-আদালত

রানা প্লাজা ধস: ১৩ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

রানা প্লাজা ধস: ১৩ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেও গার্মেন্টস শিল্পে এত মারাত্মক দুর্ঘটনা আর হয়নি। এ ঘটনায় প্রাণ যায় ১ হাজার ১৩৫ শ্রমিকের, যাদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ।

১৩ বছর আগের এ দুর্ঘটনার বিচারে অবহেলায় হত্যার অভিযোগের প্রমাণ মেলে। ২০১৫ সালে সিআইডি ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। বিচার শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর একের পর এক আসামি হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ পর্যন্ত।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়সাল মাহমুদ বলেন, দিনের পর দিন অনেক সময় চলে গেছে, কিন্তু রাষ্ট্র পক্ষ থেকে বা সরকারের পক্ষ থেকে মামলটি দ্রুত নিষ্পন্ন করতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। এ বছরও এ মামলা শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ৬ মাসের মধ্যে মামলা শেষ করতে বললেও তাতেও কান দেননি সাক্ষী, পুলিশ, বিচারক কেউই।

ফয়সাল মাহমুদ বলেন, অনেকেই আছেন, যারা বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। এবং সে কারণে তারা মামলার বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তাদের উদ্বুদ্ধ করে আদালতে নিয়ে আসা, এই বিষয়টি আমরা যথেষ্ট সদিচ্ছার সাথেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। যাতে আমরা খুব দ্রুততার সাথে শেষ করতে পারি।

অভিযুক্ত সোহেল রানার আইনজীবী মাসুদ খান খোকন এখনও মনে করেন, তার মক্কেল নির্দোষ। তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। এত বছরেও সাক্ষ্য শেষ না হওয়ায় তিনি ধরেই নিয়েছেন এ মামলার বিচার আর শেষ হবে না।  তিনি বলেন, এ মামলায় রানা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং নিরপরাধ। আমি রানার খালাস চাচ্ছি। আর যদি খালাস না হয় বিচার নিষ্পত্তি শেষে সাজা হবে।

আগামি ৩০ এপ্রিল এ মামলায় ফের সাক্ষ্য নেয়া হবে। অবশ্য সাক্ষ্য যদি আনতে পারে রাষ্ট্রপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


রানা প্লাজা ধস: ১৩ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেও গার্মেন্টস শিল্পে এত মারাত্মক দুর্ঘটনা আর হয়নি। এ ঘটনায় প্রাণ যায় ১ হাজার ১৩৫ শ্রমিকের, যাদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ।

১৩ বছর আগের এ দুর্ঘটনার বিচারে অবহেলায় হত্যার অভিযোগের প্রমাণ মেলে। ২০১৫ সালে সিআইডি ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। বিচার শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর একের পর এক আসামি হাইকোর্টে যাওয়ায় মামলাটির বিচার থমকে থাকে ২০২২ পর্যন্ত।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়সাল মাহমুদ বলেন, দিনের পর দিন অনেক সময় চলে গেছে, কিন্তু রাষ্ট্র পক্ষ থেকে বা সরকারের পক্ষ থেকে মামলটি দ্রুত নিষ্পন্ন করতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। এ বছরও এ মামলা শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ৬ মাসের মধ্যে মামলা শেষ করতে বললেও তাতেও কান দেননি সাক্ষী, পুলিশ, বিচারক কেউই।

ফয়সাল মাহমুদ বলেন, অনেকেই আছেন, যারা বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। এবং সে কারণে তারা মামলার বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তাদের উদ্বুদ্ধ করে আদালতে নিয়ে আসা, এই বিষয়টি আমরা যথেষ্ট সদিচ্ছার সাথেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। যাতে আমরা খুব দ্রুততার সাথে শেষ করতে পারি।

অভিযুক্ত সোহেল রানার আইনজীবী মাসুদ খান খোকন এখনও মনে করেন, তার মক্কেল নির্দোষ। তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। এত বছরেও সাক্ষ্য শেষ না হওয়ায় তিনি ধরেই নিয়েছেন এ মামলার বিচার আর শেষ হবে না।  তিনি বলেন, এ মামলায় রানা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং নিরপরাধ। আমি রানার খালাস চাচ্ছি। আর যদি খালাস না হয় বিচার নিষ্পত্তি শেষে সাজা হবে।

আগামি ৩০ এপ্রিল এ মামলায় ফের সাক্ষ্য নেয়া হবে। অবশ্য সাক্ষ্য যদি আনতে পারে রাষ্ট্রপক্ষ।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত