ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

রাজনীতি

অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র: গোলাম পরওয়ার

অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র: গোলাম পরওয়ার

যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। 

তিনি বলেন, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সকল মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অপরিণামদর্শী। জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া মূলত তাদের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী মূল শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অনলাইন ক্লাসের নামে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়ে। 

শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সরাসরি পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাসও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জামায়াত নেতার মতে, জেনেশুনে এমন ব্যবস্থা চালু করা মানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

বিবৃতিতে বিগত কোভিড-১৯ কালীন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনলাইন ক্লাসের কারণে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সচ্ছল অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে এবং ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার জরিপে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ও শিশুশ্রম বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রমের অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষাখাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে আবারও অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া আত্মঘাতী হবে।

জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল প্রশ্ন তোলেন  রাষ্ট্রের বিলাসিতাসহ অন্য সব খাত সচল রেখে কেন কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে? তিনি সরকারকে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সবশেষে তিনি অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র: গোলাম পরওয়ার

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। 

তিনি বলেন, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সকল মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অপরিণামদর্শী। জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া মূলত তাদের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী মূল শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অনলাইন ক্লাসের নামে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়ে। 

শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সরাসরি পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাসও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জামায়াত নেতার মতে, জেনেশুনে এমন ব্যবস্থা চালু করা মানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

বিবৃতিতে বিগত কোভিড-১৯ কালীন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনলাইন ক্লাসের কারণে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সচ্ছল অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে এবং ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার জরিপে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার ও শিশুশ্রম বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রমের অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষাখাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে আবারও অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া আত্মঘাতী হবে।

জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল প্রশ্ন তোলেন  রাষ্ট্রের বিলাসিতাসহ অন্য সব খাত সচল রেখে কেন কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে? তিনি সরকারকে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সবশেষে তিনি অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত