ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

অর্থনীতি

উত্তরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে আতংকের ভিড়

উত্তরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে আতংকের ভিড়
ছবিটি নীলফামারীর সৈয়দপুর বাসটার্মিনালের সুমনা ফিলিং স্টেশন থেকে শনিবার নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত। এমন  খবরে দেশের উত্তরাঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল  বিপননে উপচে পড়া ভীড় চলছে। মাত্র  কয়েক  ঘন্টার ব্যাবধানে ২ থেকে ৩ হাজার লিটার জ্বালানি  তেল বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায়  এবার বেশি তেল সরবরাহ  হলেও  কয়েকটি  অসাধু চক্র অদৃশ্য সংকটের আতংক ছড়িয়ে অস্থির করেছে  উত্তরের জ্বালানি  তেলের বাজার। এতে তারা ব্যাপক লাভবান হলেও দেখার কেউ নেই।

‎‎‎জানা যায়,  মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে আমেরিকা ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানী তেলের বাজারে। সংকট না থাকলেও রিজার্ভের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতনরা ৮ মার্চ সিদ্ধান্ত নেয়।  ২০২৫ সালের মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন মাসে প্রতিটি পাম্পে যে পরিমান সরবরাহ করা হয়েছিল, ওই পরিমানের চেয়ে  শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ তেল কম সরবরাহ করা হবে। এতে তেলের আপদকালীন মজুদসহ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। 

‎

‎উর্ধত্বনদের এমন নির্দেশনা পেয়ে বাংলাদেশের রাস্ট্রায়ত্ব তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা অয়েল কোম্পানি লি:, যমুনা অয়েল কোম্পানি লি : ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড কোম্পানিগুলো

‎ চলতি মাসের ৮ মার্চ থেকে উত্তরের ৮ জেলার  ৩৮১টি ফিলিং স্টেশন, ২৯২টি এজেন্সি ও ৩০ টি প্যাকড পয়েন্টে তেল সরবরাহ শুরু করেন।  এতে  সুষম বন্টনের মাধ্যমে প্রতিটি পাম্পে গতবছর  মার্চের তুলনায় চলতি মার্চ মাসে জ্বালানী  তেল বেশী সরবরাহ করা হয়।  এর পরেও অদৃশ্য সংকট আতংকে উত্তরের সকল পাম্পে গ্রাহকরা তেল সংগ্রহে হুড়োহুড়ি করছে।  এরমধ্যে  নীলফামারীর টেঙ্গনমারি ফিলিং স্টেশনে তেল নিয়ে উত্তেজনায় ১৫ জন আহত হয়।

‎

‎সবার ধারনা জ্বালানি তেল নিয়ে মহামারী আসন্ন। ভবিষ্যতের জন্য তাই মজুদের আয়োজনে ব্যাস্ত  যানবাহন মালিকেরা। সাথে একটি কুচক্রী মহল অদৃশ্য সংকটের ধোয়া ছড়িয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন পাম্পে তেল কিনে বিভিন্ন হাটবাজারে দ্বিগুন দরে বিক্রি করছেন।

‎

‎পার্বতিপুর পদ্মা অয়েল কোম্পানি  লি: এর বিক্রয় প্রতিনিধি জীবন চন্দ্র ভৌমিক জানান,  মার্চ ২৬ গতকাল পর্যন্ত ৮ জেলায় সরবরাহ করেছে ১,৮৮,০৮৯ লিটার ডিজেল এবং সাড়ে ৩০ লাখ   লিটার পেট্রোল ও ১০ লাখ অকটেন।   অথচ ২০২৫ সালে একই মাসে অকটেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার লিটার, পেট্রোল ২৮ লাখ ৫৯ হাজার  সরবরাহ করেছিলেন।

‎

‎যমুনা অয়েল কোম্পানির সহকারী বিক্রয় প্রতিনিধি  মোঃ মহসিন জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুসরন করা হচ্ছে। আমাদের  সকল ফিলিং স্টেশন, এজেন্সি ও প্যাকড পয়েন্টে পুর্বের চাহিদামতে তেল দেয়া হচ্ছে। তবে আকস্মিক চাহিদা বেড়েছ। 

‎

‎মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপোপার্বতিপুর ব্যাবস্থাপক রবিউল আলম বলেন, ভারত থেকে ৮৪ লাখ লিটার ডিজেল শীঘ্রই আসছে। তেল উঠানোর প্রস্ততি চলছে।  পর্যাপ্ত মজুদ আছে। সিলেট ও ভারত থেকে পাওয়ায় চট্টগ্রামের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছি। গতবারের চেয়ে তেল বেশি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কোন সংকট নেই।  অনেকে বারবার তেল নিয়ে খোলাবাজারে ব্যবসা করছে। এটা প্রতিরোধে মাঠে প্রশাসন কাজ করছে।

‎

‎সরেজমিন দেখা গেছে, মেঘনার ডিলার সৈয়দপুর কলাবাগান এলাকায় আইযুব পেট্রোল পাম্পে ৫ শত থেকে ৮ শত টাকার তেল দেয়া হচ্ছে পরিচিতদের। আবার অনেককে ২ শত টাকার বেশি দেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে অন্যন্য তেল গ্রাহকরা প্রতিবাদ করেন। তৈরী হয় উত্তেজনা। এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে।

‎

‎আতংক নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন  প্রতিটি ফিলিং স্টেশন ও তেল বিক্রির পয়েন্ট মনিটরিংয়ে ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করেন।  সাথে নির্দেশনা দেয়া হয়, বৈধ গাড়ির কাগজপত্র চেক করে তেল দেয়ার।  তবে এমন  নির্দেশনা কোথাও মানা হচ্ছে না। ফলে অদৃশ্য সংকট আতংক চড়মে উঠেছে।

‎

‎আবার অনেক ফিলিং স্টেশন বা পাম্প রাস্ট্রায়ত্ব তেল বিপনন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অসম বন্টনের অভিযোগ তুলেছেন।  সৈয়দপুরের ইকু ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জিতেন অভিযোগ করেন, আমরা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। অনেককে  নিয়মিত তেল দেওয়া হচ্ছে, আর বাকিদের  নিয়মের বৃত্তে আবদ্ধ করা হয়েছে।  এতে সিন্ডিকেটের তেল ব্যাবসায়ীরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। 

‎একই অভিযোগ করেন পাম্প মালিক মো. ফিরোজ। তিনি বলেন,  আমি লিফটিং অনুপাতে পদ্মা ফুয়েল কোম্পানির কাছে ২০ হাজার লিটার তেল পাই, কিন্তু তারা দিচ্ছে না।  আবার একটি সিন্ডিকেট  প্রতিদিন তেল পাচ্ছে। ডিপো ইনচার্জসহ উর্ধতনরা অর্থের বিনিময়ে এমন অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ অনেকের।

‎তবে যমুনা কোম্পানির সহকারী ইনচার্জ সমির কুমার এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,  এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। হিসাব সকলের জন্য সমান, এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি স্টেশনকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো সংকট নেই।

‎পদ্মা ফুয়েল কোম্পানির ডিপিএম শফিউল কবির বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ উদ্বিগ্ন হবেন না। কোনো তেল সংকট নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সময়েও আমরা সরবরাহ নিশ্চিত রাখছি। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট নিয়মে হচ্ছে, তাই কোন সমস্যা হচ্ছে না।

‎

‎

‎

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


উত্তরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে আতংকের ভিড়

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত। এমন  খবরে দেশের উত্তরাঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল  বিপননে উপচে পড়া ভীড় চলছে। মাত্র  কয়েক  ঘন্টার ব্যাবধানে ২ থেকে ৩ হাজার লিটার জ্বালানি  তেল বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায়  এবার বেশি তেল সরবরাহ  হলেও  কয়েকটি  অসাধু চক্র অদৃশ্য সংকটের আতংক ছড়িয়ে অস্থির করেছে  উত্তরের জ্বালানি  তেলের বাজার। এতে তারা ব্যাপক লাভবান হলেও দেখার কেউ নেই।

‎‎‎জানা যায়,  মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে আমেরিকা ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানী তেলের বাজারে। সংকট না থাকলেও রিজার্ভের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতনরা ৮ মার্চ সিদ্ধান্ত নেয়।  ২০২৫ সালের মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন মাসে প্রতিটি পাম্পে যে পরিমান সরবরাহ করা হয়েছিল, ওই পরিমানের চেয়ে  শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ তেল কম সরবরাহ করা হবে। এতে তেলের আপদকালীন মজুদসহ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। 

‎

‎উর্ধত্বনদের এমন নির্দেশনা পেয়ে বাংলাদেশের রাস্ট্রায়ত্ব তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা অয়েল কোম্পানি লি:, যমুনা অয়েল কোম্পানি লি : ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড কোম্পানিগুলো

‎ চলতি মাসের ৮ মার্চ থেকে উত্তরের ৮ জেলার  ৩৮১টি ফিলিং স্টেশন, ২৯২টি এজেন্সি ও ৩০ টি প্যাকড পয়েন্টে তেল সরবরাহ শুরু করেন।  এতে  সুষম বন্টনের মাধ্যমে প্রতিটি পাম্পে গতবছর  মার্চের তুলনায় চলতি মার্চ মাসে জ্বালানী  তেল বেশী সরবরাহ করা হয়।  এর পরেও অদৃশ্য সংকট আতংকে উত্তরের সকল পাম্পে গ্রাহকরা তেল সংগ্রহে হুড়োহুড়ি করছে।  এরমধ্যে  নীলফামারীর টেঙ্গনমারি ফিলিং স্টেশনে তেল নিয়ে উত্তেজনায় ১৫ জন আহত হয়।

‎

‎সবার ধারনা জ্বালানি তেল নিয়ে মহামারী আসন্ন। ভবিষ্যতের জন্য তাই মজুদের আয়োজনে ব্যাস্ত  যানবাহন মালিকেরা। সাথে একটি কুচক্রী মহল অদৃশ্য সংকটের ধোয়া ছড়িয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন পাম্পে তেল কিনে বিভিন্ন হাটবাজারে দ্বিগুন দরে বিক্রি করছেন।

‎

‎পার্বতিপুর পদ্মা অয়েল কোম্পানি  লি: এর বিক্রয় প্রতিনিধি জীবন চন্দ্র ভৌমিক জানান,  মার্চ ২৬ গতকাল পর্যন্ত ৮ জেলায় সরবরাহ করেছে ১,৮৮,০৮৯ লিটার ডিজেল এবং সাড়ে ৩০ লাখ   লিটার পেট্রোল ও ১০ লাখ অকটেন।   অথচ ২০২৫ সালে একই মাসে অকটেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার লিটার, পেট্রোল ২৮ লাখ ৫৯ হাজার  সরবরাহ করেছিলেন।

‎

‎যমুনা অয়েল কোম্পানির সহকারী বিক্রয় প্রতিনিধি  মোঃ মহসিন জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুসরন করা হচ্ছে। আমাদের  সকল ফিলিং স্টেশন, এজেন্সি ও প্যাকড পয়েন্টে পুর্বের চাহিদামতে তেল দেয়া হচ্ছে। তবে আকস্মিক চাহিদা বেড়েছ। 

‎

‎মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপোপার্বতিপুর ব্যাবস্থাপক রবিউল আলম বলেন, ভারত থেকে ৮৪ লাখ লিটার ডিজেল শীঘ্রই আসছে। তেল উঠানোর প্রস্ততি চলছে।  পর্যাপ্ত মজুদ আছে। সিলেট ও ভারত থেকে পাওয়ায় চট্টগ্রামের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছি। গতবারের চেয়ে তেল বেশি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কোন সংকট নেই।  অনেকে বারবার তেল নিয়ে খোলাবাজারে ব্যবসা করছে। এটা প্রতিরোধে মাঠে প্রশাসন কাজ করছে।

‎

‎সরেজমিন দেখা গেছে, মেঘনার ডিলার সৈয়দপুর কলাবাগান এলাকায় আইযুব পেট্রোল পাম্পে ৫ শত থেকে ৮ শত টাকার তেল দেয়া হচ্ছে পরিচিতদের। আবার অনেককে ২ শত টাকার বেশি দেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে অন্যন্য তেল গ্রাহকরা প্রতিবাদ করেন। তৈরী হয় উত্তেজনা। এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে।

‎

‎আতংক নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন  প্রতিটি ফিলিং স্টেশন ও তেল বিক্রির পয়েন্ট মনিটরিংয়ে ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করেন।  সাথে নির্দেশনা দেয়া হয়, বৈধ গাড়ির কাগজপত্র চেক করে তেল দেয়ার।  তবে এমন  নির্দেশনা কোথাও মানা হচ্ছে না। ফলে অদৃশ্য সংকট আতংক চড়মে উঠেছে।

‎

‎আবার অনেক ফিলিং স্টেশন বা পাম্প রাস্ট্রায়ত্ব তেল বিপনন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অসম বন্টনের অভিযোগ তুলেছেন।  সৈয়দপুরের ইকু ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জিতেন অভিযোগ করেন, আমরা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। অনেককে  নিয়মিত তেল দেওয়া হচ্ছে, আর বাকিদের  নিয়মের বৃত্তে আবদ্ধ করা হয়েছে।  এতে সিন্ডিকেটের তেল ব্যাবসায়ীরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। 

‎একই অভিযোগ করেন পাম্প মালিক মো. ফিরোজ। তিনি বলেন,  আমি লিফটিং অনুপাতে পদ্মা ফুয়েল কোম্পানির কাছে ২০ হাজার লিটার তেল পাই, কিন্তু তারা দিচ্ছে না।  আবার একটি সিন্ডিকেট  প্রতিদিন তেল পাচ্ছে। ডিপো ইনচার্জসহ উর্ধতনরা অর্থের বিনিময়ে এমন অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ অনেকের।

‎তবে যমুনা কোম্পানির সহকারী ইনচার্জ সমির কুমার এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,  এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। হিসাব সকলের জন্য সমান, এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি স্টেশনকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো সংকট নেই।

‎পদ্মা ফুয়েল কোম্পানির ডিপিএম শফিউল কবির বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ উদ্বিগ্ন হবেন না। কোনো তেল সংকট নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সময়েও আমরা সরবরাহ নিশ্চিত রাখছি। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট নিয়মে হচ্ছে, তাই কোন সমস্যা হচ্ছে না।

‎

‎

‎


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত