মাঠের সবুজ ঘাসের শিশির, ধুলোর গন্ধ সবাই চিনে পনের বছর বয়সী মারুফ আহমেদ লুমানকে। এর করণ হচ্ছে নিয়মিত ক্লাসের বাইরেও অতিরিক্ত শ্রম দেয়া। এর ফলে ফুটবলে তার দু,পয়ের অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং ও জাগলিং। তাই দেশের ফুটবলে নতুন এক উদীয়মান ও সম্ভাবনার এক নাম হয়ে উঠেছে এ তরুন।
ছয় ফুট উচ্চতার এই ডিফেন্ডার মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে মনে করিয়ে দেন এক অটল প্রাচীরের কথা। হেডে বল ক্লিয়ার করা, কর্নার ঠেকানো, বিপজ্জনক আক্রমণ ভাঙা—সবক্ষেত্রেই তার উপস্থিতি স্পষ্ট। ডান-পায়ে বজ্রগতির শট আর বাম-পায়ে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে। বল যেন তার পায়ে জীবন্ত, তার স্পর্শে প্রতিটি আক্রমণ সঠিকভাবে দিক পরিবর্তন করে।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবল ছিল তার প্রথম প্রেম। বাবার হাতে শেখা বুনিয়াদি, সৈয়দপুর স্টেডিয়ামের মাটির ঘ্রাণ, নিজের ঘরে-ঘরে, মাঠে-খেলায় করা অনুশীলন—সব মিলিয়ে গড়ে তুলেছে এক কিশোরকে, যে মাত্র পনেরো বছর বয়সে মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের দক্ষতায় সবাইকে অভিভূত করতে পারে। চার ঘণ্টার অনুশীলনের পরও থেমে থাকেন না। ড্রিবলিং, পাস, শট, হেড—সবকিছুতে তিনি নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।
২০২৩ সালে বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ার পর তার জীবন পরিবর্তিত হয়। প্রতিটি অনুশীলন, প্রতিযোগিতার চাপ, কোচদের কঠোর প্রশিক্ষণ—সবই তাকে আরও শক্তিশালী করে। অল্প বয়সে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়া তার প্রতিভারই প্রতিফলন। জাপানের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে শিখেছেন, বিশ্বের মানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে আরও কঠোর পরিশ্রম, আরও উন্নত প্রশিক্ষণ দরকার। প্রথম দিকে কিছুটা হতাশা এসেছে, কিন্তু সেটিও তাকে আরও দৃঢ় করেছে।
লুমানের চোখে এখন একটাই লক্ষ্য—লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জাতীয় দলের মাঠে নামা। প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন, দলের জন্য নির্ভরযোগ্য—এই এক পরিচয় এখন তার খেলার প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট। তার প্রিয় খেলোয়াড় ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক। তার মতো শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী এবং নেতৃত্বগুণে ভরপুর হতে চান লুমান। মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর মুহূর্তে সেই শিক্ষা যেন তার প্রতিটি সিদ্ধান্তে ঝলক দেয়।
ডান-পা, বাম-পা, হেড, ৬ ফুট উচ্চতার গড়ন—সবকিছু মিলিয়ে লুমান এখন শুধু উদীয়মান ফুটবলার নয়, তিনি দেশের জন্য জাতীয় দলের মঞ্চে নামার এক প্রতিশ্রুতিশীল তারকা। প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি অনুশীলন তাকে সেই স্বপ্নের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মাঠে প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি ট্যাকল, প্রতিটি ক্লিয়ারেন্স—সবই তার স্বপ্নের গল্প।
শুধু খেলা নয়, ফুটবল তার জীবন। প্রতিটি ঘাম, প্রতিটি ব্যর্থতা, প্রতিটি জয়—সবই তাকে আরও শক্তিশালী করছে। তার চোখে আগুন, হৃদয়ে অদম্য ইচ্ছা। একদিন এই সৈয়দপুরের কিশোর, লাল-সবুজের জার্সিতে দাঁড়িয়ে দেশের হয়ে মাঠে নামবেন। তার সংগ্রাম, পরিশ্রম আর দক্ষতা শুধু তার জন্য নয়, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
লুমান জানেন, পথটা সহজ নয়। আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা, জাপানের খেলোয়াড়দের দক্ষতা—সবকিছুই চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রতিটি চ্যালেঞ্জই তাকে নতুন করে তৈরি করছে। প্রতিটি অনুশীলন, প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি শট—সবই যেন একটি গল্প বলছে, যেখানে লুমান তার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চোখে দীপ্তি, বুকের ভেতরে অগাধ প্রত্যয়। জাতীয় দলের মঞ্চে নামার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সে প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলছে। একদিন এই কিশোর, লাল-সবুজের জার্সিতে দেশের জন্য মাঠে নামবেন, হয়ে উঠবে বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন প্রতিশ্রুতিশীল তারকা।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬
মাঠের সবুজ ঘাসের শিশির, ধুলোর গন্ধ সবাই চিনে পনের বছর বয়সী মারুফ আহমেদ লুমানকে। এর করণ হচ্ছে নিয়মিত ক্লাসের বাইরেও অতিরিক্ত শ্রম দেয়া। এর ফলে ফুটবলে তার দু,পয়ের অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং ও জাগলিং। তাই দেশের ফুটবলে নতুন এক উদীয়মান ও সম্ভাবনার এক নাম হয়ে উঠেছে এ তরুন।
ছয় ফুট উচ্চতার এই ডিফেন্ডার মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে মনে করিয়ে দেন এক অটল প্রাচীরের কথা। হেডে বল ক্লিয়ার করা, কর্নার ঠেকানো, বিপজ্জনক আক্রমণ ভাঙা—সবক্ষেত্রেই তার উপস্থিতি স্পষ্ট। ডান-পায়ে বজ্রগতির শট আর বাম-পায়ে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে। বল যেন তার পায়ে জীবন্ত, তার স্পর্শে প্রতিটি আক্রমণ সঠিকভাবে দিক পরিবর্তন করে।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবল ছিল তার প্রথম প্রেম। বাবার হাতে শেখা বুনিয়াদি, সৈয়দপুর স্টেডিয়ামের মাটির ঘ্রাণ, নিজের ঘরে-ঘরে, মাঠে-খেলায় করা অনুশীলন—সব মিলিয়ে গড়ে তুলেছে এক কিশোরকে, যে মাত্র পনেরো বছর বয়সে মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের দক্ষতায় সবাইকে অভিভূত করতে পারে। চার ঘণ্টার অনুশীলনের পরও থেমে থাকেন না। ড্রিবলিং, পাস, শট, হেড—সবকিছুতে তিনি নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।
২০২৩ সালে বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ার পর তার জীবন পরিবর্তিত হয়। প্রতিটি অনুশীলন, প্রতিযোগিতার চাপ, কোচদের কঠোর প্রশিক্ষণ—সবই তাকে আরও শক্তিশালী করে। অল্প বয়সে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়া তার প্রতিভারই প্রতিফলন। জাপানের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে শিখেছেন, বিশ্বের মানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে আরও কঠোর পরিশ্রম, আরও উন্নত প্রশিক্ষণ দরকার। প্রথম দিকে কিছুটা হতাশা এসেছে, কিন্তু সেটিও তাকে আরও দৃঢ় করেছে।
লুমানের চোখে এখন একটাই লক্ষ্য—লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জাতীয় দলের মাঠে নামা। প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন, দলের জন্য নির্ভরযোগ্য—এই এক পরিচয় এখন তার খেলার প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট। তার প্রিয় খেলোয়াড় ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক। তার মতো শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী এবং নেতৃত্বগুণে ভরপুর হতে চান লুমান। মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর মুহূর্তে সেই শিক্ষা যেন তার প্রতিটি সিদ্ধান্তে ঝলক দেয়।
ডান-পা, বাম-পা, হেড, ৬ ফুট উচ্চতার গড়ন—সবকিছু মিলিয়ে লুমান এখন শুধু উদীয়মান ফুটবলার নয়, তিনি দেশের জন্য জাতীয় দলের মঞ্চে নামার এক প্রতিশ্রুতিশীল তারকা। প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি অনুশীলন তাকে সেই স্বপ্নের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মাঠে প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি ট্যাকল, প্রতিটি ক্লিয়ারেন্স—সবই তার স্বপ্নের গল্প।
শুধু খেলা নয়, ফুটবল তার জীবন। প্রতিটি ঘাম, প্রতিটি ব্যর্থতা, প্রতিটি জয়—সবই তাকে আরও শক্তিশালী করছে। তার চোখে আগুন, হৃদয়ে অদম্য ইচ্ছা। একদিন এই সৈয়দপুরের কিশোর, লাল-সবুজের জার্সিতে দাঁড়িয়ে দেশের হয়ে মাঠে নামবেন। তার সংগ্রাম, পরিশ্রম আর দক্ষতা শুধু তার জন্য নয়, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
লুমান জানেন, পথটা সহজ নয়। আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা, জাপানের খেলোয়াড়দের দক্ষতা—সবকিছুই চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রতিটি চ্যালেঞ্জই তাকে নতুন করে তৈরি করছে। প্রতিটি অনুশীলন, প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি শট—সবই যেন একটি গল্প বলছে, যেখানে লুমান তার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চোখে দীপ্তি, বুকের ভেতরে অগাধ প্রত্যয়। জাতীয় দলের মঞ্চে নামার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সে প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলছে। একদিন এই কিশোর, লাল-সবুজের জার্সিতে দেশের জন্য মাঠে নামবেন, হয়ে উঠবে বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন প্রতিশ্রুতিশীল তারকা।

আপনার মতামত লিখুন