ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

ক্রিকেট

বাবার ফুটবলীয় উত্তরাধিকার বুকে নিয়ে এশিয়া কাপের স্বপ্নে মারুফ

বাবার হাত ধরে ফুটবলে হাতেখড়ি। সৈয়দপুরের মাঠে বলের পেছনে ছুটতে ছুটতেই স্বপ্নের বীজ বোনা। স্কুল ফুটবল ও স্থানীয় লিগে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে এবার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল দলে জায়গা করে নিয়েছে সৈয়দপুরের উদীয়মান ফুটবলার মারুফ আহমেদ লুমান। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ ২০২৭-এর বাছাইপর্বের প্রস্তুতিতে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে আজ জর্ডানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন এখন এই তরুণ ডিফেন্ডারের চোখে।মারুফের ফুটবলযাত্রার গল্পে জড়িয়ে আছে তাঁর বাবা মো. মোকছেদ আলীর নাম। সৈয়দপুর পৌরসভার এই কর্মচারী একসময় ছিলেন উত্তরাঞ্চলের দাপুটে লেফট উইঙ্গার। নব্বইয়ের দশকে ঢাকার দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে মহাখালী একাদশের হয়ে খেলেছেন তিনি। সৈয়দপুরের ফুটবলপাড়া হিসেবে পরিচিত বৈশাখী সংঘে তাঁর ফুটবলে হাতেখড়ি। মাঠে গতি, বলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরির দক্ষতার জন্য স্থানীয় ফুটবলাঙ্গনে তাঁর পরিচিতি ছিল।বাবার সেই ফুটবলীয় ঐতিহ্য বুকে নিয়েই বেড়ে উঠেছে মারুফ। শৈশব থেকেই বাবার হাত ধরে বৈশাখী সংঘে সঙ্গে যুক্ত হয় সে। সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়ামের মাঠে নিয়মিত অনুশীলন, স্কুল ফুটবল ও স্থানীয় লিগে খেলার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করে। স্থানীয় ফুটবল অঙ্গনে তার প্রতিভা ও সম্ভাবনা নজর কাড়লে খুলে যায় বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ। সেখানে নিবিড় অনুশীলন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রশিক্ষণে নিজেকে আরও দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলে সে।৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার মারুফের অন্যতম শক্তি তার ক্ষিপ্রতা, গতিময়তা ও অসাধারণ ড্রিবলিং। ডিফেন্ডার হিসেবে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের পথ আটকে দেওয়া, বিপজ্জনক আক্রমণ প্রতিহত করা এবং রক্ষণভাগে দৃঢ়তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এসব গুণ তাকে বাড়তি সুবিধা দেয়। দ্রুত পজিশন নেওয়া ও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সামর্থ্যও তার খেলার গুরুত্বপূর্ণ দিক। রক্ষণভাগে দলের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সৈয়দপুরের এই তরুণ।প্রতিভা, পরিশ্রম ও ধারাবাহিক অনুশীলনের পথ ধরে এবার তার ঠিকানা জাতীয় দল। প্রধান কোচ লোডভাইক ডি ক্রুইফের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছে মারুফ। কোচের আস্থা অর্জন করে মাঠে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চায় সে। তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলাই তার কাছে শেষ কথা নয়; দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্য অর্জন করাই তার বড় স্বপ্ন।এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের আগে জর্ডানে অনুশীলন ম্যাচ খেলা বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে রক্ষণভাগের সমন্বয়, প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানো এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার কৌশল ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে দলটি। মারুফের জন্যও এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের দক্ষতা তুলে ধরার বড় মঞ্চ।জর্ডানের প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ দলের সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে লাল-সবুজের তরুণদের। দলের রক্ষণভাগে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারুফের সামনে থাকবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়া, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চ্যালেঞ্জ।সৈয়দপুর শহরের স্টেডিয়ামসংলগ্ন কুন্দল গ্রামে বেড়ে ওঠা মারুফ নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দেশের ফুটবলে অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর। জাতীয় দলের হয়ে ভালো খেলার ব্যাপারে সে শতভাগ আশাবাদী। দেশের মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নামতে চায়, লড়তে চায় প্রতিটি বলের জন্য এবং দলের সাফল্যে রাখতে চায় নিজের স্বাক্ষর।বাবা মোকছেদ আলী একসময় ফুটবল মাঠে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। এবার তাঁর ছেলে রক্ষণভাগের প্রাচীর হয়ে দেশের স্বপ্ন রক্ষার অভিযানে নামতে যাচ্ছে। বাবার দেখানো পথ ধরে শুরু হলেও মারুফের লক্ষ্য নিজের পরিচয় গড়া—নিজের দক্ষতা, লড়াকু মানসিকতা ও পারফরম্যান্স দিয়ে। সৈয়দপুরের মাঠ থেকে বিকেএসপি, আর সেখান থেকে জাতীয় দলের জার্সি—মারুফের এই পথচলা স্থানীয় ফুটবলাঙ্গনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। এখন অপেক্ষা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার সামর্থ্য মেলে ধরার। দেশের ফুটবলের সাফল্যে অবদান রেখে একদিন আরও বড় স্বপ্নের দুয়ার খুলবে—এ প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে তার পরিবার, স্বজন ও সৈয়দপুরের ফুটবলপ্রেমীরা।

বাবার ফুটবলীয় উত্তরাধিকার বুকে নিয়ে এশিয়া কাপের স্বপ্নে মারুফ