প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকায় এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ সৈয়দপুরের চার যুবকের চিকিৎসা সহায়তার আকুতি
মিজানুর রহমান মহসিন ||
ঢাকার আলু বাজার এলাকায় এসি বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন সৈয়দপুরের চার যুবকের চিকিৎসায় জরুরি সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুত্তাকিমের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন আবেদন জানানো হয়েছে।ফেসবুকে প্রকাশিত ওই পোস্টে বলা হয়, অগ্নিদগ্ধ চারজনের মধ্যে একজন দুর্গামিল ক্যাম্পের এবং তিনজন কুলি মহল্লার বাসিন্দা। তারা সবাই নিম্ন আয়ের সেলুন কর্মী। প্রতিদিনের উপার্জনেই চলত তাদের সংসার। হঠাৎ দুর্ঘটনায় তারা এখন রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন।পোস্টে লেখক প্রথমেই সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুত্তাকিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পরবর্তীতে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হাসপাতালে গিয়ে সরকারিভাবে চিকিৎসার আশ্বাস দেন। এ জন্য তিনি সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী উভয়ের প্রতিই ধন্যবাদ জানান।তবে তিনি দাবি করেন, বাস্তব পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত কঠিন। আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য তারা নিজেদের সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল প্রায় সবই ব্যয় করেছেন। বর্তমানে প্রতিদিনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।পোস্টে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালে প্রতিদিন বেড চার্জের পাশাপাশি ব্যয়বহুল ওষুধ এবং প্রায় ১০ হাজার টাকা মূল্যের ইনজেকশন দিতে হচ্ছে। এসব খরচ এখন মূলত আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় সহৃদয়বান ব্যক্তি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সংগ্রহ করা অর্থের মাধ্যমে বহন করা হচ্ছে।এদিকে আহতদের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এরশাদ হোসেন পাপ্পু, আব্দুল খালেক শাবুসহ অনেকেই আর্থিক সহায়তা করেছেন। সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহীনও ঢাকায় গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের জন্য সরকারিভাবে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।লেখক আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক আবেদন নয়; বরং চারটি অসহায় পরিবারের জীবন বাঁচানোর আকুতি। সরকারি সহায়তা নিশ্চিত হলে পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার আশা ফিরে পাবে।পোস্টের শেষাংশে অগ্নিদগ্ধ চার যুবকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সৈয়দপুরবাসীসহ দেশবাসীর কাছে তাদের জন্য দোয়া ও মানবিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ আব্দুর রাকিব
কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত