প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়ার মঞ্চে সৈয়দপুরের নাশিতার ব্রোঞ্জ জয়
মিজানুর রহমান মহসিন ||
কারাতে শুধু একটি খেলা নয়, এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা, সাহস ও আত্মরক্ষার এক অনন্য শিক্ষা। প্রতিটি কাতা, প্রতিটি কুমিতে আর প্রতিটি ঘুষি-লাথির আঘাতের পেছনে থাকে বছরের পর বছর কঠোর অনুশীলন, ঘাম আর আত্মত্যাগের গল্প। সেই গল্পই এবার নতুন করে লিখল নীলফামারীর সৈয়দপুরের দুই ক্ষুদে কারাতেকা—আরকান আহমেদ (১০) ও মাকসুরাতুন নাশিতা (১০)।ঢাকার সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দশম সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান—এই ছয়টি দেশের প্রায় ৮৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। বাংলাদেশের হয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার এইচ কে কারাতে কিং একাডেমি থেকে অংশ নেয় এই দুই ক্ষুদে যোদ্ধা।ফাইট (কুমিতে) ইভেন্টে অসাধারণ দক্ষতা, দ্রুততা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের প্রতিযোগীদের পরাজিত করে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেয় মাকসুরাতুন নাশিতা। মাত্র ১০ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার এই সাফল্য শুধু সৈয়দপুর নয়, গোটা নীলফামারীর জন্য গর্বের।নাশিতা সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত কারাতে অনুশীলন করে সে। তার স্বপ্নের পথে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত, ব্ল্যাক বেল্ট দ্বিতীয় ড্যানধারী প্রশিক্ষক হাসান আলী।কোচ হাসান আলী বলেন, "কারাতে একজন মানুষকে শুধু প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে শেখায় না, বরং জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের সামনে সাহসের সঙ্গে দাঁড়াতে শেখায়। আমার একাডেমির খেলোয়াড়রা অত্যন্ত মেধাবী। নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে তারা আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পদক বয়ে আনবে। সেই লক্ষ্যেই সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়ামে প্রতিদিন কঠোর অনুশীলন চলছে।"বর্তমানে এইচ কে কারাতে কিং একাডেমিতে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এখানে শুধু ঘুষি-লাথির কৌশল নয়, শেখানো হয় আত্মনিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা, সম্মানবোধ, আত্মরক্ষা ও নেতৃত্বের গুণাবলি। ফলে শিশুরা শারীরিকভাবে যেমন শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তেমনি মানসিকভাবেও গড়ে উঠছে আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে।নাশিতার ব্রোঞ্জ পদক প্রমাণ করেছে—সুযোগ, সঠিক প্রশিক্ষণ ও অধ্যবসায় থাকলে মফস্বলের ছোট্ট একটি একাডেমি থেকেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ানো সম্ভব। সৈয়দপুরের এই ক্ষুদে কারাতেকাদের স্বপ্ন এখন আরও বড়—একদিন দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণপদক জিতে আনা।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ আব্দুর রাকিব
কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত