প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক এলজিইডির বেলাল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে মো. বেলাল হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক অঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হলেও একই সময়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল হওয়া একাধিক গুরুতর অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এই নিয়োগকে ঘিরে।সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সদ্য অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফার স্থলাভিষিক্ত হয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (শিক্ষা) মো. বেলাল হোসেন সাময়িকভাবে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এই দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে।দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মজীবনের শুরুতে সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের অধিকারী হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। অভিযোগকারীর দাবি, সাবেক সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪০টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই শতভাগ বিল উত্তোলন করা হয়। পরে একই প্রকল্পে আবারও বরাদ্দ দিয়ে পুনরায় কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। অনেক সেতু ও কালভার্ট এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কাগজে প্রকল্প শেষ দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।এছাড়া প্রশাসন শাখার দায়িত্বে থাকাকালে আউটসোর্সিং নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, প্রায় ১ হাজার ১২৫ জনকে নিয়োগ দিতে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পদোন্নতি, চলতি দায়িত্ব ও বদলির ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সারাদেশে শতশত কর্মকর্তাকে অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি দিয়ে দশ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তার দায়িত্বকালে নিম্নমানের কাজ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর মতো অনিয়ম বেড়ে যায়। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগও বেশ গুরুতর। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাজধানীর মিরপুরে দুটি ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে একটি প্লট, রংপুরে পাঁচতলা বাড়ি এবং কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে প্রায় ২১০ বিঘা কৃষিজমিসহ তার নামে শত কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. বেলাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।দুদক সূত্র জানিয়েছে, তাদের কাছে জমা পড়া অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি। এদিকে প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, এটি নিয়মিত পদায়ন নয়, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সুশাসন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তাদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে সত্য উদঘাটনই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ আব্দুর রাকিব
কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত