প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
তারাগঞ্জে শিশু সানজিদা হত্যা রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার যুবক
মিজানুর রহমান মহসিন ||
রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত শিশু সানজিদা আক্তার (৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মুজাহিদ মিয়া (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) তারাগঞ্জ থানা চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এ তথ্য জানান।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরআনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলামের মেয়ে ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার গত ১৯ জুন বিকেলে বাড়ির পাশে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।রাতভর গ্রামের বিভিন্ন এলাকা, ঝোপঝাড়, খালপাড় ও আশপাশের ফসলি জমিতে অনুসন্ধান চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার অপহরণের আশঙ্কা করলেও কোনো ধরনের মুক্তিপণ দাবি বা যোগাযোগ না আসায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।পরদিন সকালে বাড়ির অদূরে ডালিয়া ক্যানেলের পাশের একটি পাটক্ষেতে স্থানীয়রা একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি সানজিদার বলে শনাক্ত করেন।এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনার পরপরই একাধিক তদন্ত টিম কাজ শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, আলামত বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। শিশুটির সর্বশেষ গতিবিধি এবং ঘটনার সময় এলাকায় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করা ব্যক্তিদের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।তদন্তের একপর্যায়ে একই এলাকার যুবক মুজাহিদ মিয়ার ওপর সন্দেহ তৈরি হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়।অবশেষে সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ও রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে ভীমপুর কোরআনিপাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত মুজাহিদ শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। পরে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার উদ্দেশ্যে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং পরে মরদেহটি পাটক্ষেতে ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।তিনি বলেন, “আমরা কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছি না। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে, একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।শিশু সানজিদার মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে। এখন সবার প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ আব্দুর রাকিব
কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত