প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
বনবিভাগে ঘুরতে গিয়ে সেনাসদস্য ও তার স্ত্রী লাঞ্চিত: আটক-২
মিজানুর রহমান মহসিন ||
দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন শেষে ছুটিতে বাড়ি এসে স্ত্রীকে নিয়ে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটাতে গিয়েছিলেন এক সেনা সদস্য। কিন্তু সেই নিরিবিলি ভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হয় অপমান, আতঙ্ক ও দুর্ভোগের ঘটনায়। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোমনাতী বনবিভাগে সেনা সদস্য ও তার স্ত্রীকে হেনস্তা এবং মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার উত্তর গোমনাতী এলাকার মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম বাবু (৩৮) এবং একই এলাকার মো. ছারোয়ার আলীর ছেলে মো. আলমগীর হোসেন (৩২)।জানা গেছে, গত ১২ জুন ছুটিতে বাড়িতে আসা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য রায়হান ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে গোমনাতী ফরেস্ট এলাকায় ঘুরতে যান। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থানকালে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে রায়হান ইসলাম নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও অভিযোগ রয়েছে, তারা তা বিশ্বাস করেননি। বরং তাকে এবং তার স্ত্রীকে হেনস্তা ও মারধর করা হয়।ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একজন সেনা সদস্য ও তার স্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে সেনা সদস্যের বাবা নূর আলম বাদী হয়ে ডোমার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শফিকুল ইসলাম (বাবু), আলমগীর হোসেনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।র্যাব সূত্রে জানা যায়, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুন ভোরে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী কলোনীপাড়ার ফারুক হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১৩, রংপুর এবং সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।ডোমার থানার ওসি (তদন্ত) মো. আজগর আলী জানান, সেনা সদস্য ও তার স্ত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব তাদের থানায় হস্তান্তর করে। পরে শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।এদিকে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দায়িত্বশীল নাগরিক ও দেশের নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে সংঘটিত এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ আব্দুর রাকিব
কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত