প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
জাতীয় কুইজ প্রতিযোগিতা: সৈয়দপুরের ইব্রাহিম চ্যাম্পিয়ন
মিজানুর রহমান মহসিন ||
কখনও কখনও একটি ছোট্ট শহরের স্বপ্ন একজন কিশোরের চোখে ভর করে আকাশ ছুঁয়ে ফেলে। নীলফামারীর সৈয়দপুরের আকাশে তেমনই এক গর্বের সূর্য হয়ে উদিত হয়েছে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ। জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা (NHSPC) ২০২৬-এ জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সে শুধু একটি ট্রফিই জেতেনি, জিতে নিয়েছে একটি জনপদের ভালোবাসা, গর্ব আর অসংখ্য স্বপ্নের আলো।সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির এই মেধাবী শিক্ষার্থী গত ১৩ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জুনিয়র কুইজ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে দেশের সেরার আসনে বসেছে। শত শত প্রতিযোগীর ভিড়ে নিজের মেধা, অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাসের দীপ্তি ছড়িয়ে সে হয়ে উঠেছে জাতীয় মঞ্চের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় ৪০০ প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল এ প্রতিযোগিতায়। প্রত্যেকেই এসেছিল স্বপ্ন নিয়ে, বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবার ওপরে উঠে আসে সৈয়দপুরের এক কিশোরের নাম—ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ। বিজয়ের সেই মুহূর্ত যেন শুধু একটি নামের উচ্চারণ নয়, বরং ছিল সৈয়দপুরের প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এক অপূর্ব প্রতিধ্বনি।এই অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ইব্রাহিম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর হাত থেকে ল্যাপটপ, চ্যাম্পিয়ন ট্রফি, পদক ও সনদপত্র গ্রহণ করে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রফি হাতে তার হাসিমাখা মুখ যেন বলে দিচ্ছিল—স্বপ্ন কখনও ছোট হয় না, ছোট হয় না স্বপ্নবাজ মানুষের সাহসও।এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরলস প্রচেষ্টা ও শিক্ষকদের অক্লান্ত শ্রম। গত ১৬ মে রংপুরে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১১ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৯ জন কুইজ এবং ২ জন প্রোগ্রামিং ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ার গৌরবের সঙ্গে এবার যুক্ত হলো জাতীয় চ্যাম্পিয়নের মুকুটও।প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল সৈয়দ শাফিউল ইসলাম মেরাজ এ অর্জনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইব্রাহিমের এই সাফল্য আমাদের সকলের গর্ব। তার অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও নতুন স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনুপ্রাণিত করবে।”সৈয়দপুরের মানুষ বিশ্বাস করে, একটি জনপদের প্রকৃত শক্তি তার তরুণদের মেধা ও স্বপ্নে লুকিয়ে থাকে। ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। তার সাফল্যের গল্প হয়তো আগামী দিনের অনেক শিশুর বুকের ভেতর নতুন করে জ্বালিয়ে দেবে জয়ের প্রদীপ, সাহসের আলো।আজ তাই শুধু একটি পরিবার নয়, শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—গর্বিত পুরো সৈয়দপুর। কারণ তাদেরই এক সন্তান জাতীয় মঞ্চে প্রমাণ করেছে, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে মফস্বলের ছোট্ট শ্রেণিকক্ষ থেকেও দেশের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। ইব্রাহিমের এই জয় তাই একক কোনো বিজয় নয়; এটি একটি শহরের স্বপ্নজয়ের গল্প, একটি প্রজন্মের এগিয়ে যাওয়ার গল্প।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ আব্দুর রাকিব
কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত