প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
অজ্ঞান পার্টি ও চাঁদাবাজ রুখতে মাঠে পুলিশ: নির্বিঘ্নে পশুর হাট জমল দোহারে
শহীদুল ইসলাম শরীফ ||
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার দোহার উপজেলার পশুর হাটগুলো পুরোদমে জমে উঠতে শুরু করেছে। এর মধ্যে পদ্মা নদী সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মেঘুলা বাজার পশুর হাটে এবার এক ভিন্ন আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সড়ক পথের পাশাপাশি নদী পথকে ব্যবহার করে কুষ্টিয়া এবং বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ রাজবাড়ী, সদরপুর ও চরভদ্রাসন এলাকা থেকে বড়ো বড়ো ট্রলারে করে দলে দলে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা।সড়ক পথের চেয়ে নদী পথে খরচ কিছুটা কম এবং পশুদের যাতায়াতে ধকল কম হওয়ায় এই রুটটিকে বেছে নিয়েছেন নদীপাড়ের খামারিরা। ফরিদপুর থেকে আসা এক ব্যাপারী জানান,"ট্রলারে করে একসাথে অনেকগুলো গরু সহজে আনা যায়। রাস্তায় ট্রাফিকের ঝামেলা নেই আর গরুর পায়েও আঘাত লাগে না। আমরা মেঘুলা হাটে প্রতি বছরই আসি, এখানকার ক্রেতারা দেশি গরুর ভালো দাম দেন।"পদ্মাপাড়ের এই হাটে মাঝারি ও ছোট আকারের দেশি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ফরিদপুরের চরে প্রাকৃতিক ঘাস খেয়ে বড়ো হওয়া সুঠাম স্বাস্থ্যের গোরুগুলোর দিকেই ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার পশুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা চড়া বলে জানান বিক্রেতারা। এদিকে, ঘাট এলাকায় বড়ো বড়ো ট্রলার থেকে সারিবদ্ধভাবে গরু নামানোর এই নয়ন কাড়া দৃশ্য দেখার জন্য পদ্মা পাড়ে স্থানীয় উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।বাহিরের ব্যাপারীদের পাশাপাশি দোহারের স্থানীয় খামারিরাও মেঘুলা হাটে বড়ো পসার জমিয়েছেন। উপজেলার স্থানীয় খামারি শাহীন মোল্লা জানান, তার খামারে এবার কোরবানিযোগ্য মোট ৪০টি গরু রয়েছে। তার মধ্যে আজ হাটে বিক্রির জন্য ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন এবং আগামীকাল সোমবার বাকি ২০টি গরু হাটে তুলবেন।এ হাটে গরুর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ছাগলের আমদানিও চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ চরজয়পাড়া এলাকার তরুণ ব্যবসায়ী সম্রাট। তার বাবাও দীর্ঘদিন ধরে ছাগলের ব্যাবসার সাথে জড়িত ছিলেন। বাবার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সম্রাট এবার দূরবর্তী জেলা যশোর থেকে প্রায় ২০০ টি ছাগল কিনে এই মেঘুলা হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন।হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা হয় মেঘুলা বাজার হাটের ইজারাদার ভুলু খালাসির সাথে। তিনি জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হাটে তাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত রয়েছে, পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও সার্বক্ষণিক পাহারায় আছে। হাটে কোনো প্রকার জালিয়াতি যাতে না ঘটতে পারে, সেজন্য আগামীকাল সোমবার হাটে জাল টাকা শনাক্তকারী মেশিন স্থাপন করা হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম এই হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক ও ট্রলার বোঝাই করে পশু আসতে শুরু করেছে। যদিও সাম্প্রতিক ঝড় ও বৃষ্টির কারণে হাটের কার্যক্রমে মাঝে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল, তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আগামী সোমবার থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত এখানে রেকর্ড পরিমাণ বেচাকেনার আশা করছেন।এদিকে উপজেলার জয়পাড়া বড় মাঠ ও কার্তিকপুর হাটেও স্থানীয় খামারিদের পালিত পশুর পাশাপাশি বাইরের পাইকারদের আনাগোনা বাড়ছে। বিশেষ করে চাকরিজীবী ক্রেতারা বিকেলের পর এই হাটগুলোতে বেশি ভিড় করছেন।পশুর হাটগুলোকে কেন্দ্র করে জালিয়াতি চক্র বা অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রুখতে দোহার উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ বসানো হচ্ছে। এছাড়া ট্রলার ঘাট ও হাট এলাকায় যাতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য সাদা পোশাকে পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মেডিকেল টিমও হাটে সক্রিয় রয়েছে।নদী ও সড়ক— দুই পথেই পশুর রেকর্ড আমদানির কারণে এবার দোহারের পশুর হাটগুলো, বিশেষ করে মেঘুলা বাজার হাট ক্রেতা-বিক্রেতাদের দারুণ সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ আব্দুর রাকিব
কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত