প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সৈয়দপুরসহ দেশের আট বিমানবন্দরে কড়া সতর্কতা
মিজানুর রহমান মহসিন ||
রাষ্ট্রের আকাশপথ যেন আজ এক অদৃশ্য উৎকণ্ঠার ভারে নত। সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার শঙ্কাকে কেন্দ্র করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোতে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। সৈয়দপুরসহ দেশের মোট আটটি বিমানবন্দরে এখন দৃশ্যমান এক কঠোর নিরাপত্তা বলয়।নীরব রানওয়ে, ব্যস্ত টার্মিনাল আর যাত্রীদের চলাচলের ভিড়ের মাঝেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। প্রতিটি প্রবেশপথে কড়াকড়ি, প্রতিটি ব্যাগেজে অতিরিক্ত তল্লাশি—সব মিলিয়ে আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা, নতুন সতর্কতার ছায়া।সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এক মতবিনিময় সভায় জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কবার্তার পর পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় নেওয়া হয়েছে। আগে থেকেই বিদ্যমান নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্ত ও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে নতুন নির্দেশনায়।সতর্কবার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, এমনকি জাতীয় সংসদ ভবন-এর মতো স্পর্শকাতর স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। যদিও সংগঠনটির নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবুও আশঙ্কার ছায়া এখন পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাজুড়ে বিস্তৃত।বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মোট আটটি বিমানবন্দর চালু রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরের আকাশদ্বার সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে—দর্শনার্থী প্রবেশ সীমিত, চেকিং পয়েন্টে কড়াকড়ি এবং টহল ব্যবস্থায় বাড়তি জনবল মোতায়েন।বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক বাহাউদ্দীন জাকারিয়া জানান, নিরাপত্তা জোরদার কোনো নতুন বা জরুরি নির্দেশনার কারণে নয়, বরং এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি বলেন, “এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিমাস বা দুই মাস পরপরই রুটিন অনুযায়ী করা হয়। এখানে দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ধাপে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। আমরা সবসময়ই নিরাপত্তা বিষয়ে তৎপর থাকি।”সৈয়দপুরসহ প্রতিটি বিমানবন্দরে বেবিচকের এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। যেখানে আগে একজন দায়িত্বে ছিলেন, এখন সেখানে একাধিক প্রহরী; যেখানে ছিল স্বাভাবিক নজরদারি, সেখানে এখন স্তরভিত্তিক তল্লাশি।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।এই সতর্কতার ভেতরেও আকাশপথ থেমে নেই। বরং প্রতিটি উড্ডয়ন যেন বহন করছে এক নীরব বার্তা—আশঙ্কার ছায়া থাকলেও আকাশপথ এখনো নিয়ন্ত্রিত, সজাগ এবং প্রস্তুত।তবে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক বাহাউদ্দীন জাকারিয়া আরও বলেন, “নিরাপত্তা জোরদার বিষয়ে আলাদা কোনো বিশেষ নির্দেশনা আসেনি। এটি আমাদের নিয়মিত কাজেরই অংশ। আমরা প্রতিনিয়তই দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, চেকিং ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া শক্তিশালী করি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময়ই সতর্ক ও তৎপর।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ আব্দুর রাকিব
কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত